সততার সাথে - সততার পথে

সাইনবোর্ড আছে, দু’বছর হয়ে গেল এখনও রাস্তা সংস্কার হয়নি

সাইনবোর্ডই সার, দুবছর পেরিয়ে গেলেও পাকা রাস্তার কাজ শুরু হয়নি। পঞ্চায়েত ভোট পার হতেই সূর্যাপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বস্তাডাঙ্গিতে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে বছর দুই আগে রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে সাইনবোর্ড টাঙানো হলেও আজও কাজ শুরু হয়নি। সূর্যাপুর গ্রামের যুবক ইরফান বলেন, লোকসভা ভোটের আগে তৃণমূলের ভোট কুড়ানোই উদ্দেশ্য ছিল। ভোটের পরে বিভিন্ন গল্প বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে তারা। কাজই যখন হল না তখন সাইনবোর্ড খুলে ফেলা হোক। সূর্যাপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের কমলপুর, কসলপাড় সূর্যাপুর পূর্বপাড়ের সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন, রাস্তা নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ না করেই সাইনবোর্ড টাঙানো হল কেন? উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর যদি টাকা বরাদ্দ করেই থাকে, তাহলে রাস্তাটি নির্মাণে কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে কেন সেই কথা সাইনবোর্ডে লেখা নেই?

প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে জেলা পরিষদের সদস্যা নিখাত বানুকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, বস্তাডাঙ্গি থেকে কমলপুর হয়ে সূর্যাপুর বস্তি দিয়ে সূর্যকমল রেলস্টেশনের উত্তর রেলগেট পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের প্রস্তাব জেলা পরিষদে পাঠানো হয়েছিল। রাস্তা নির্মাণের জন্য কিলোমিটার প্রতি ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ ছিল। গোয়ালপোখর-২ ব্লকে জামিরা থেকে বাগডোব, লালগঞ্জ থেকে খুদ্দান ও লালগঞ্জ থেকে করণদিঘি ব্লকের হারদা, চৌঘরিয়া থেকে হাতিপা হয়ে দেওগাঁ- এই পাঁচটি রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রস্তাব দেওয়া ছিল। লালগঞ্জ-খুদ্দান ও চৌঘরিয়া দেওগাঁ রাস্তার কাজ বর্তমানে চালু রয়েছে। বাকি তিনটি রাস্তার কাজের টাকা বরাদ্দ হয়নি।

তিনি আরও বলেন, রাস্তাগুলি যাতে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের টাকায় তৈরি করা যায় তার জন্য মন্ত্রী গোলাম রব্বানি, জেলা পরিষদের সভাধিপতি কবিতা বর্মন ও উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়ালাকে জানানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরে চাকুলিয়া বিধানসভা এলাকার বোর্ড মেম্বার না থাকার কারণেই বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ হয় না। যাঁরা মেম্বার রয়েছেন তাঁরা নিজ নিজ এলাকার জন্য সুপারিশ করেন। চাকুলিয়ার প্রতিনিধি না থাকার কারণেই এই এলাকা অবহেলিতই থেকে যায়।

তিনি জানান, এই রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা খরচ হবে। রাস্তা দুটি নির্মাণ হলে চাকুলিয়া বিধানসভা এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা মিনহাজুল আরফিন আজাদ বলেন, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের তালিকাভুক্ত ১৭২টি রাস্তার মধ্যে বস্তাডাঙ্গি- সূর্যাপুর রেলওয়ে রাস্তাটিও ছিল। করোনার জন্যই সমস্ত টেন্ডার বাতিল করে সরকার। আমি হলফ করে বলছি রাস্তাটি নির্মাণ হবে। চাকুলিয়ার বিধায়ক এলাকার রাস্তাঘাটের কোনও উন্নয়ন না করার জন্যই এলাকার বেহাল দশা।

চাকুলিয়ার বাম বিধায়ক আলি ইমরান রমজ বলেন, রাজ্যে একটা ভাঁওতাবাজির সরকার চলছে। সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য লোকসভা ভোটের আগে অনেক সাইনবোর্ড লাগানো ও শিলান্যাস করা হয়েছিল।গোয়ালপোখর ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক কানাইয়াকুমার রায় বলেন, আমি শুনেছি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের একটি সাইনবোর্ড ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে বস্তাডাঙ্গিতে লাগানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

Your email address will not be published.