সততার সাথে - সততার পথে

কিশনগঞ্জ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশে উট পাচারের নতুন করিডর

কিশনগঞ্জ করিডর দিয়ে বাংলাদেশে অন্য গবাদিপশুর সঙ্গে উট চোরাচালান তুঙ্গে উঠেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় এক সাংবাদিক বৈঠক করে এমনটাই জানিয়েছেন কিশনগঞ্জের পুলিশ সুপার কুমার আশিস। গত কয়েকদিনে জেলার দুই জায়গায় হানা দিয়ে পুলিশ দুইটি ট্রাক থেকে মোট ২৩টি উট উদ্ধার করেছে। পাচারের অভিযোগে দুটি ট্রাক, একটি চার চাকার গাড়ি, পাঁচটি মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে আটজনকে।

পুলিশ সুপার জানান, দিল্লির একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পিএফএ ফাউন্ডেশন এই উট বাংলাদেশে পাচারের খবর দেয়। সেই গোপন খবরের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। এসডিপিও আনোয়ার জাভেদের নেতত্বে গঠিত দলটি গত সপ্তাহের সোমবার প্রথমে জেলার পুঠিয়া ব্লকের পাহারকাট্টা অঞ্চলে হানা দেয়। সেখানে একটি ট্রাক থেকে ১৬টি উট সমেত দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। আবার শুক্রবার ওই সোসের্র খবরের ভিত্তিতেই ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের পথে রামপুর আবগারি চেকপোস্টে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা নাকা চেকিং চলে। সেইসময়ে একটি ট্রাক থেকে সাতটি উট উদ্ধার করা হয়। চোরাপথে উট পাচারের অভিযোগে পুলিশ দইুজনকে গ্রেপ্তারও করে। শুধু তাই নয়, উট বোঝাই ট্রাকটিকে আগে লাইন দিয়ে নিয়ে যাওয়া একটি ছোট চার চাকার গাড়ি সমেত চারজনকেও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ সুপার বলেন, এই উটগুলি ১০ থেকে ১৫ দিন আগে রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশের বাগপত, বিহার, পশ্চিমবঙ্গর রাস্তা হয়ে দুই ধাপে কিশনগঞ্জ পৌঁছায়। কিশনগঞ্জ থেকেই উত্তরবঙ্গে উটগুলিকে নিয়ে যাওয়া হত। উত্তরবঙ্গে অবস্থিত বাংলাদেশের কোনও সীমান্ত দিয়ে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে সেগুলি পাচার করার পরিকল্পনা নিয়েছিল উট পাচারকারীরা। কিন্তু পুলিশ আগে থেকেই খবর পেয়ে তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলে।

বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাহারকাট্টা ও কিশনগঞ্জ থানায় ধৃত আটজন উট পাচারকারীর বিরুদ্ধে পশু ক্রুরতা অধিনিয়ম-১৯৬০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপরদিকে, দুই ধাপে পাচারকারীদের আদালতে পেশ করা হলে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেপাজতের নির্দেশ দিয়ে কিশনগঞ্জ সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সুপার জানান, আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক উট চোরাচালান চক্রটির সদস্যরা রাজস্থান, হরিয়ানা, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের কিশনগঞ্জের বেশকিছু অঞ্চলের মানুষ।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

Your email address will not be published.