সততার সাথে - সততার পথে

বিয়ের আগের রাতে প্রেমিকের হামলায় গুরুতর আহত হবু বর

প্রেমিকার বিয়ে আন্য কারও সাথে তাও আবার ভ্যালেন্টাইন্স ডে তে। বৃহস্পতিবার রাতে কামারপাড়ায় হবু বর ও প্রেমিকার অভিভাবকদের উপর দলবল নিয়ে হামলা চালাল প্রেমিক। এই হামলায় হবু বর সহ মোট ৫ জন জখম হয়েছে, তাদের মধ্যে ৩ জন বালুরঘাট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সুজন সরকার (কামারপাড়ার বাসিন্দা) নামে এক যুবক স্থানীয় এক কিশোরীর সাথে প্রেম করতো। কয়েক মাস আগে সেই সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়। এরপর থেকেই এই যুবক ফেসবুকে একটি অ্যাকাউন্ট করে ওই কিশোরীর অশ্লীল ছবি পোস্ট করতে শুরু করে। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে এলাকার মান্যগণ্য ব্যক্তিরা একটি সালিশি সভার মাধ্যমে এই সমস্যা মিটিয়ে দেয়। এই সালিশি সভায় ঠিক হয় যে সুজন আর কোন অশ্লীল ছবি পোস্ট করবে না এবং ওই কিশোরীকে আর বিরক্ত করবে না। এছারাও ওই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট টাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

কিছুদিনের মধ্যেই স্থানীয় অন্য এক যুবকের সাথে ওই কিশোরীর বিয়ে ঠিক হয়। ভ্যালেন্টাইন্স ডের দিন ওই কিশোরীর রেজিস্ট্রি হওয়ার কথা ছিল। অভিযোগ, এই খবর পাওয়ার পর, অভিযুক্ত যুবক কিশোরীর পরিবারকে অশ্লীল গালাগাল এবং পরে দলবল নিয়ে গিয়ে মারধর করে। এছারাও কিশোরীর হবু বর সুব্রত প্রামানিককেও ব্যাপক মারধর করা হয়। এই হামলার পর কিশোরীর মামা (সুকোমল সরকার) ও সুব্রত প্রামানিক (হবু বর) বালুরঘাট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযুক্ত প্রেমিক সুজন সরকারও রাতে বালুরঘাট হাসপাতালে ভর্তি হয় কিন্তু সকালেই তাঁকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কিশোরীর মামা সুকোমল সরকার জানায়, “সুজন সরকারের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি। আমার ভাগ্নির সাথে এক সময় সুজন সরকারের সম্পর্ক ছিল কিন্তু সেই সম্পর্ক এখন আর নেই। তাও নানান রকম ভাবে ওই ছেলেটা (সুজন সরকার) আমাদের বিরক্ত করেই চলেছে। প্রায় প্রতিদিনই আমাদের ধমকি দেয়, ফেসবুকে অশ্লীল ছবি পোস্ট করে। কিছু দিন আগে গ্রামের এক সালিশি সভায় ওই সমস্যা মেটানো হয়েছিল। তারপর আমাদের গ্রামেরই এক যুবক সুব্রত প্রামানিকের সাথে ভাগ্নির বিয়ে ঠিক হয়, আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি ওদের রেজিস্ট্রি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কাল রাতে সুজন সরকার আমাদের বাড়ি এসে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করা শুরু করে। আমি প্রতিবাদ করতে গেলে আমায় দলবল নিয়ে এসে আক্রমণ করে। আমার দাদা, জামাইবাবু সহ অন্যান্যরা, যারা আমাকে বাঁচাতে এসেছিল, তাদের কেও মারধর করে। অবশ্য তাদের মধ্যে কেউই হাসপাতালে ভরতি নেই। কিন্তু সুব্রতকেও ব্যাপক মেরেছে।”

সুব্রত প্রামানিক (হবু বর) জানায়, “সুজন সরকার বারবার আমাকে ওই কিশোরীর সাথে বিয়ে করতে বারন করছিল। কিন্তু আমি ওর কথা না শুনেই, বিয়েতে রাজি হই। আজকে আমাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল রাতে সেই কারণেই আমাকে আরও বেশি মারধর করেছে।”

তবে অভিযুক্ত ওই যুবক সুজন সরকারের বাবা অখিল সরকার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ওই কিশোরীর পরিবার সব মনগড়া কথা বলছে। এই এলাকাতে আমার রমরমা ব্যবসা দেখে অনেকেই হিংসায় জ্বলে। আমাকে বিভিন্য ভাবে বিপাকে ফেলার চেষ্টা হয়। গতকাল আমার ছেলে ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে মহাজনকে পেমেন্ট করতে যাচ্ছিল। ওই সময় ওই পরিবারের তরফে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার ছেলের উপর হামলা করা হয়। ঘটনায় সুবিচার পেতে ভালভাবে অভিযোগ দায়ের করেছি।”

দু’পক্ষের তরফেই বালুরঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ডিএসপি সদর ধীমান মিত্র বলেন, অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে।

 

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

Your email address will not be published.