সততার সাথে - সততার পথে

দিল্লি হিংসায় নাম জড়াল ইয়েচুরি, যোগেন্দ্র যাদবের

উত্তর-পূর্ব দিল্লির হিংসার অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে এবার নাম জড়াল সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, স্বরাজ অভিযানের নেতা যোগেন্দ্র যাদব, অর্থনীতিবিদ জয়তী ঘোষ, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অপূর্বানন্দ এবং তথ্যচিত্র নির্মাতা রাহুল রায়ের। দিল্লি পুলিশ এই হিংসার তদন্তে যে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দিয়েছে তাতে এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে তাঁরা সিএএ-এনআরসি বিরোধী আন্দোলনকারীদের চরম পথ বেছে নিতে বলেছিলেন। সিএএ এবং এনআরসিকে মুসলিম বিরোধী বলে আখ্যা দেওয়ার অভিযোগও করেছিলেন তাঁরা। কেন্দ্রীয় সরকারের ভাবমূর্তিতে কালি লাগাতে অবস্থান, বিক্ষোভের আয়োজন করেছিলেন এই পাঁচজন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তর-পূর্ব দিল্লির হিংসায় মৃত্যু হয় ৫৩ জনের। আহত হন ৫৮১ জন। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, জাফরাবাদে হিংসার ঘটনায় ইউএপিএ আইনে ধৃত পিঞ্জরা তোড় নামক সংগঠনের সদস্য তথা জেএনইউ-এর পড়ুয়া দেবাঙ্গনা কলিতা ও নাতাশা নারওয়াল, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার পড়ুয়া গুলফিশা ফতিমার বয়ানের ভিত্তিতে ইয়েচুরি, যোগেন্দ্র যাদব সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন সীতারাম ইয়েচুরি। তিনি টুইটারে লিখেছেন, এটাই হল মোদি এবং তাঁর বিজেপির প্রকৃত চেহারা, চরিত্র, চাল এবং চিন্তাভাবনা। এর বিরোধিতা হবেই। তিনি লিখেছেন, বিজেপি বেআইনিভাবে যে ভয় দেখাচ্ছে তাতে সিএএ-র মতো বৈষম্যমূলক আইনের বিরোধিতা করা থেকে মানুষকে আটকানো যাবে না। ধর্ম, বর্ণ, রং, জাত, অঞ্চল, লিঙ্গ এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সমস্ত ভারতীয় যে সমান, সেটা বলা শুধু আমাদের অধিকার নয়, কর্তব্যও বটে। আমরা এটা করেই ছাড়ব।

ইয়েচুরি লিখেছেন, সংসদে, মিডিয়ায়, তথ্যের অধিকার আইন-সর্বত্র বিজেপি সরকার প্রশ্নের উত্তর দিতে ভয় পায়। প্রধানমন্ত্রী কোনও সাংবাদিক বৈঠক করেন না। তথ্যের অধিকার আইনে জানতে চাওয়া হলেও নিজের ব্যক্তিগত ফান্ড কিংবা ডিগ্রি সংক্রান্ত উত্তর দেন না। ওঁরা মনে করেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজনৈতিক বিরোধীদের মুখ বন্ধ করে দেবেন। আমরা জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলাম। বর্তমানে যে জরুরি অবস্থা চলছে তার বিরুদ্ধেও লড়ব।

দিল্লি পুলিশের সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে তাঁর সহ পাঁচ জনের নাম থাকা নিয়ে ইয়েচুরির তোপ, দিল্লি পুলিশ বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীন। তাদের এই বেআইনি কাজকর্ম বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। ৫৬ জন মানুষ দিল্লি হিংসার বলি হয়েয়েছিলেন। যাঁরা বিদ্বেষমূলক ভাষণ দিয়েছিলেন, ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও তাঁদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না কেন। কারণ, বিজেপি সরকার বিরোধীদের কবজা করার নির্দেশ দিয়েছে।

এই ইশ্যুতে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকারের ফ্যাসিস্টসুলভ পদক্ষেপ নিয়ে প্রধানত গণতন্ত্রকে আক্রমণ করতে চাইছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই চক্রান্তের তীব্র নিন্দা জানান সূর্যকান্ত মিশ্র। তিনি সর্বাত্মক প্রতিবাদের আহ্বান জানান। বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের এই চক্রান্তের তীব্র ও সর্বাত্মক প্রতিবাদে সরব হতে হবে। রবিবার থেকেই সারা রাজ্যে প্রতিবাদের কর্মসূচি নিতে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। সমস্ত বামপন্থী, গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি ও ব্যক্তির কাছে আমাদের আহ্বান, এই আক্রমণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

Your email address will not be published.