সততার সাথে - সততার পথে

ক্যারাটের কিটের বদলে কাঁধে কুরিয়ারের ব্যাগ – নষ্ট হয়ে গেছে জীবনের ছন্দ

করোনা সংক্রমণ মানুষের জীবনকে ভয়ঙ্কর ভাবে প্রভাবিত করে ফেলেছে। নষ্ট হয়ে গেছে জীবনের ছন্দ। স্কুল কলেজ বন্ধ। অফিস কাছারি, ব্যবসা-বাণিজ্য থমকে দাঁড়িয়েছে। বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন। যারা কিছু আগাম পরিকল্পনা করছিলেন সেগুলিও বাধ্য হয়ে বাতিল করতে হয়েছে।

দেশের এবং বিদেশের বহু প্রান্তে অনেক মানুষকে তার পেশা ছেড়ে অন্যত্র অন্য কাজ করতে দেখা গেছে। এরকমই এক করুণ উদাহরণ দেখা গেল আমাদের পাশের রায়গঞ্জ শহরে। আজকাল রায়গঞ্জ শহরের অনেকেই চিনতে শুরু করেছেন একজন কমবয়সী মেয়েকে, যে তার সাইকেলে চেপে সকাল-সন্ধ্যায় পার্সেল ব্যাগ নিয়ে ঘুরে ঘুরে অসম্ভব পরিশ্রম করে ডেলিভারি দিয়ে চলেছে।

মেয়েটির নাম স্মৃতিকণা কুন্ডু, দখলে কারাটের ব্ল্যাকবেল্ট। কারাটেতে ভালো জায়গায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার বদলে করোনা অতিমারি, হাতে ডেলিভারি পার্সেল তুলে দিয়েছে। জাতীয়স্তরে ক্যারাটে প্রশিক্ষকের কোচিং নিয়ে ক্যারাটের প্রশিক্ষণ দেওয়াও শুরু করেছিলেন স্মৃতিকণা। কিন্তু লকডাউন তাঁর জীবনটাকে একদম পালটে দিয়েছে। বন্ধ নিজের ক্যারাটের প্রশিক্ষণ, বন্ধ হয়ে গিয়েছে মায়ের শাড়ির ব্যবসাও।

স্মৃতিকণা ২০১৮ সালে ও ২০১৯ সালে তাঁর ভাই মাধ্যমিক পাশ করে। গত বছর ভাই বোন দুজনেই ইটাহারের সরকারি পলিটেকনিক কলেজে ভর্তি হয়। বাবা-মার বিচ্ছেদ অনেক আগেই ঘটেছিল। পেটের দায়ে ছেলেমেয়েকে মামা বাড়িতে রেখে স্মৃতিকণার মা দিল্লিতে গিয়েছিলেন কাজ করবার জন্য। ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্মৃতিকণার মা এ বছর জানুয়ারি মাসে রায়গঞ্জে ফিরে আসে এবং কাপড়ের ব্যবসা করে সংসার চালাচ্ছিলেন।

কিন্তু লকডাউনে সমস্ত কিছু নষ্ট করে দেয়, শেষ হয়ে যায় জমানো পুজি। অবশেষে সংসারের হাল ধরতে মেয়েটিকে কুরিয়ার কোম্পানিতে কাজ নিতে হয়। বাড়ির সবাই বুঝে যায় পলিটেকনিক পড়া আর তাদের পক্ষে হয়ে উঠবে না। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে চাইলেও রায়গঞ্জের স্কুলগুলি নাকি তাদের ভর্তি নিতে চাইছে না, কারণ তারা চলতি শিক্ষাবর্ষের ছাত্র নয়, তাই পরিবার চাইছে অন্তত কেউ যেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে ছেলেমেয়েকে কোন একটি স্কুলে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির বন্দোবস্ত করে দেয়।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

Your email address will not be published.