সততার সাথে - সততার পথে

জঙ্গী নাশকতার আশঙ্কা – উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় হাই এলার্ট

প্রতিবছর কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের ওপর গুরু দায়িত্ব থাকে যেন যেমন করেই হোক স্বাধীনতা দিবসে যেন কোনো রকম বাধা বিঘ্ন না ঘটে। এই সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জঙ্গি সংগঠনগুলো দেশি এবং বিদেশি প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সহায়তায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। পুলিশ, প্রশাসন, গোয়েন্দা দপ্তর সবাই আপ্রাণ চেষ্টা করে নিজের নিজের কর্তব্য পালন করে চলেছেন যাতে কোনরকম নাশকতামূলক কার্যকলাপ যেন দেশে না ঘটে।

গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুসারে সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ এবং আসামে কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশন বা KLO, বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের সহায়তায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। গোয়েন্দা দপ্তরের ধারণা কেএলও-কে সাহায্য করছে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট অফ বোড়োল্যান্ড এবং টিওয়া ন্যাশনাল রেভলিউশনারি ফোর্স। বিগত চার মাসে এই সংগঠনগুলির কর্মকর্তারা নেপাল, পশ্চিমবঙ্গ এবং আসাম জুড়ে 6টির বেশি বৈঠকে একত্রিত হয়েছিল।

অনুমান, ওই গোপন বৈঠকগুলিতে ন্যাশনাল সোশালিস্ট কাউন্সিল অফ নাগাল্যান্ড(NSCN) খাপলাং গোষ্ঠীর নেতারাও নাকি উপস্থিত ছিল। কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশন-এর বিগত দিনে বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের সাথে হাত মেলানো, কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুসারে এ বছর জুন মাসের মাঝামাঝি নাগাদ কেএলও এবং তার সঙ্গীসাথীরা আসামের ধুবড়ি জেলার এক গ্রামে মিলিত হয়। এছাড়াও কোকরাঝাড়, গোয়ালপাড়ায এবং নেপালেও নাকি এই সংগঠনগুলি বৈঠকের জন্য মিলিত হয়েছিল। গোয়েন্দাদের ধারণা সেই মিটিংগুলিতে স্থানীয় যুবকদের নিয়ে এসে ব্রেনওয়াশ করা হয়। প্রশাসনের ধারণা এই লকডাউনের সময় কাজ হারিয়ে ফেলা যুবকদের নিজের দলে টেনে নেওয়াই এখন এই জঙ্গী সংগঠনগুলির উদ্দেশ্য।

বিভিন্ন ফোন নাম্বার ট্যাপ করে গোয়েন্দারা জঙ্গী যোগাযোগের তথ্য বের করার চেষ্টা করছে। মালদা জেলার কিছু অংশও সন্দেহের ঘেড়াতে রয়েছে। সম্প্রতি আসামের কোকরাঝাড় জেলার গোঁসাইগাঁও-এর এক দুর্গম এলাকা থেকে অসম পুলিশ অত্যাধুনিক রাইফেল সহ প্রচুর গোলাবারুদ উদ্ধার করেছিল। প্রতিবেশী দুই রাজ্য অসম এবং পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ নিজেদের মধ্যে তথ্য বিনিময় করে জঙ্গি কার্যকলাপের খবর বের করার চেষ্টা করছে। ফোনটা ট্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার লিংকম্যানদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

বিভিন্ন এলাকায় সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন সহ বাংলা এবং অসম সীমান্তের সমস্ত এলাকায় নাকা চেকিং-এর মাধ্যমে পুলিশ, যানবাহন এবং বিভিন্ন গতিবিধিকে কড়া নজরে রেখেছে। নজরদারি থেকে বাদ যাচ্ছে না রেলওয়ে লাইনও। শুধুমাত্র স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালেই নয়, পুলিশ প্রশাসনের সাথে সাধারণ মানুষকেও সব সময় সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

Your email address will not be published.