সততার সাথে - সততার পথে

বিশ্বত্রাস করোনা ভাইরাস – আজকের পরিস্থিতি

গোটা পৃথিবী কেঁপে উঠেছে করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে। কমবেশি করে অনেক দেশে কেউ না কেউ এর শিকার হয়ে পড়েছেন। আতঙ্কে কাঁপছে গোটা ইউরোপ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর রোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের আশঙ্কাকে ‘মাঝারি থেকে বেশি’ মধ্যে গ্রেডিং দিলেন।

জার্মানিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১৫০ পেরিয়েছে। নর্থ রাইন ওয়েস্টফালিয়ার মত জনবহুল এলাকায় সরকার স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।  ইতালিতে সোমবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০, আক্রান্ত ২০০০-এর বেশি মানুষ।  ব্রিটেনও এর করাল থাবা থেকে রক্ষা পায়নি, আক্রান্ত হয়েঅ,ন প্রায় ৩৪ জন। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন দেশবাসীকে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিলেন, পরিস্থিতি হয়তো আগামীতে আরো জটিল হতে পারে।

আমেরিকাতেও আবার একজনের মৃত্যু হলো। গতকাল আমেরিকাতে পাঁচজন কে একসঙ্গে সংক্রমিত হতে দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইটালির যাওয়া নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এক নির্দেশিকা জারি করেছে। সংক্রমণের খবর মিলেছে সেনেগাল থেকেও।

রাশিয়া এতদিন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক থেকে মুক্ত ছিল কিন্তু মস্কো থেকে প্রথম ব্যক্তির সংক্রমনের খবর এলো। গত মাসের শেষের দিকে ওই দুই যুবক ইতালী থেকে ফিরেছিলেন।

আমাদের দেশ ভারতবর্ষও কিন্তু কমবেশি নোবেল করোনাভাইরাসের আতঙ্কে ভুগছে। সম্প্রতি তেলেঙ্গানার এক ব্যক্তির শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ল, তাই উদ্বিগ্ন কর্ণাটক প্রশাসন। জানা গেছে ওই ভদ্রলোক আগে বেঙ্গালুরু থাকতেন পেশায় তিনি এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। জানা গেছে হংকং থেকে আসা কিছু মানুষের সঙ্গে কর্মসূত্রে যোগাযোগের পর তার শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে।

ওটা বিশ্বজুড়ে এই ভাইরাসের আক্রমণে মৃত্যুর সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। এরমধ্যে চিনেই রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৯০০ জনের মতো লোক। গোটা বিশ্বে প্রায় ৯০ হাজারের মত মানুষ এতে আক্রান্ত হয়েছেন।
তবে চীনের মানুষ বোধহয় একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন কারণ বিশেষজ্ঞদের মতে প্রথম দিকে যে হারে মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছিলেন, সে তুলনায় এই সংখ্যাটা এখন সামান্য কমের দিকে।

ভারতে এখনো পর্যন্ত মোট পাঁচজন করোনা ভাইরাসের কবলে পড়েছেন। তার মধ্যে তিনজনই কেরলের। চিকিৎসার পর আপাতত তারা সুস্থ আছেন। ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যা ও ঘনবসতির দেশে যদি এই ভাইরাস করাল রূপ ধারণ করে তবে ভারত এই পরিস্থিতি কিভাবে সামাল দেবে তাতে যথারীতি উদ্বিগ্ন মার্কিন প্রশাসন।

‘এদেশে মারণ রোগটিকে ঠেকানোর অন্য বিধিনিষেধ আরোপ করার মতো পরিকাঠামো নেই’- কয়েকদিন আগে এমনটাই জানিয়েছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। তা, সেই আশঙ্কা যে অমূলক নয়, তা এবার প্রমাণিত হল। বেঙ্গালুরুর করোনা আক্রান্ত সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আর পাঁচজনের মতোই একটি বাসে সফর করেছিলেন, জ্বর নিয়েই একটি বাসে চেপে হায়দরাবাদ রওনা দেন। তাঁর সংস্পর্শে আসা বাড়ির লোকজন ও অফিসের সহকর্মীদের উপর নজর রাখছে স্বাস্থ্যদপ্তর।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

Your email address will not be published.