সততার সাথে - সততার পথে

ঘুম কি নিয়মিত কম হচ্ছে? অবিলম্বে সতর্ক হন

বিছানায় এপাশ ওপাশ করতে করতে রাতের প্রায় অর্ধেকটাই পার হয়ে গেল, ঘুম আসছে না কিছুতেই। আপনি কি বেশ কিছুদিন থেকে ঠিক এমনটাই অনুভব করতে শুরু করেছেন? সময়মতন বিছানায় তো যাচ্ছেন, কিন্তু ঘুম আর আসছে না। কিংবা মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে আর ঘুম আসছে না। অনেক সময় আবার ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হচ্ছে, শরীর ভাল যাচ্ছে না আজকাল। তবে আপনি বোধহয় ‘ইনসোমনিয়া’ বা ‘অনিদ্রাজনিত’ সমস্যায় ভুগছেন।

মস্তিস্কের নিউরো হরমোনাল অসামঞ্জস্য ‘ইনসোমনিয়া’ বা ‘অনিদ্রা’র প্রধান কারণ। আপনার যদি এমন অভিজ্ঞতা সাম্প্রতিক কালে হয়ে থাকে, তবে কম ঘুমের জন্য আপনার অনেক ধরনের ক্ষতি হতে পারে, চলুন দেখে নিই তার ফিরিস্তি-

১) কম ঘুমালে বা না ঘুমালে  আমাদের শরীরের পাচন ক্রিয়ায় সাহায্যকারী অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলি সঠিক ভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে বাধা পায় খাবার হজমে সহায়ক পাচক রসগুলি উপযুক্ত মাত্রায় নিঃসরণ । তাই হজমের নানা সমস্যা শুরু হয়। 

২) হার্টের সমস্যা বাড়তে পারে। আমরা যখন ঘুমাই তখন আমাদের হৃদপিণ্ড এবং রক্তনালী কিছুটা হলেও বিশ্রাম পায়। কিন্তু ঘুম না হলে বা কম হলে প্রতিনিয়ত কার্ডিওভ্যস্কুলার সমস্যা বাড়তে থাকে। 

৩) দীর্ঘদিন রাতে না ঘুমানো বা কম ঘুমানোর ফলে শরীরে ইনসুলিন উৎপাদন ব্যহত হয়, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

৪) আমরা না ঘুমালে এই ‘লিভিং অরগানিজম’গুলো কাজ করতে পারে না। ফলে ক্রমশ আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে।

৫) ওরেক্সিন নামের একটি নিউরোট্রান্সমিটার মস্তিষ্ককে সচল রাখতে সাহায্য করে । প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ওরেক্সিন উৎপাদনের গতি মন্থর হয়ে যায়। মস্তিষ্কের কর্ম ক্ষমতা কমতে থাকে। বিষণ্ণতা, হ্যালুসিনেশনের, স্মৃতিভ্রংশের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। লোপ পেতে পারে বিচার বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা।

৬) পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বা কম হলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বাড়তে পারে। না ঘুমালে আমাদের শরীরের ‘লিভিং অরগানিজম’গুলো ঠিক মতো কাজ করতে পারে না। নষ্ট হতে পারে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য, বাড়তে পারে উচ্চ রক্তচাপ, হাইপার টেনশনের মতো সমস্যা।

তাই কোনও রকম অবহেলা না করে নিয়মিত প্রতিদিন অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা ঘুমানো অত্যন্ত জরুরী। 

মধ্যযুগে মোবাইল ফোন বা টেলিভিশন ছিল না, কিন্তু তারা এ সময় অন্য কোন কাজেও সময় দিতেন না। কখনো কখনো বিছানায় বসে বা বিছানার পাশে তারা প্রার্থনা করতেন অথবা শুয়ে শুয়ে বই পড়তেন। অনেক সময় নারীরা ঘুমানোর আগে সুই-সুতো বা কাটা দিয়ে উলের কাপড় বুনতেন। এ ধরণের কাজ মাথাকে ঠাণ্ডা করে যা অনেকটা ধ্যানের মতো। অনেকে মধ্যরাতে ঘুম ভেঙ্গে উঠে মোমের আলোয় বই পড়তেন বা চাদের আলোয় হাটাহাটি করতেন। তারা এমন খাবার খাওয়ার চেষ্টা করতেন যা খানিকটা ঠাণ্ডা ধরণের। 

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, শিশুরা যেভাবে ঘুমায়, সবার উচিত এই ঘুমের সময়টাকে সেভাবেই ব্যবহার করা।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

Your email address will not be published.